আমেরিকা ও ইরানের উত্তেজনার মধ্যে F-22 RAPTOR মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে গেল আমেরিকা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আবারও চরমে পৌঁছেছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্র ছয়টি F-22 Raptor যুদ্ধবিমান যুক্তরাজ্যের RAF Lakenheath ঘাঁটি থেকে উড়ে মধ্যপ্রাচ্যের পথে গেছে। স্থানীয় প্লেনস্পটাররা এই বিরল দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আক্রমণ পরিকল্পনার শেষ ধাপ হতে পারে।

 

F-22 Raptor: প্রযুক্তির বিস্ময়

F-22 Raptor হলো বিশ্বের অন্যতম উন্নত যুদ্ধবিমান। এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

– স্টেলথ প্রযুক্তি: রাডারে ধরা পড়ে না।

– সুপারক্রুজ ক্ষমতা: অতিরিক্ত জ্বালানি ছাড়াই দীর্ঘ সময় অতিসসোনিক গতিতে উড়তে পারে।

– এয়ার-টু-এয়ার ডমিনেন্স: আকাশযুদ্ধে প্রায় অপ্রতিরোধ্য।

– অ্যাভিওনিক্স ও সেন্সর ফিউশন: শত্রুর অবস্থান শনাক্ত করতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।

 

এই বিমানগুলোকে “গেম চেঞ্জার” বলা হয়, কারণ এগুলো আকাশপথে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

 

মোতায়েনের কারণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কারণে F-22 Raptors মোতায়েন করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং সম্ভাব্য আক্রমণের প্রস্তুতি।

 

কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট

এই মোতায়েনের সময়েই জেনেভায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দফা আলোচনা চলছে। আলোচনায় মূল বিষয়:

– ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমা

– আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ

– নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

– আঞ্চলিক নিরাপত্তা

 

যুক্তরাষ্ট্র চাইছে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি, তবে ইরান এখনো কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

– ইসরায়েল এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, ইরানকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী উপস্থিতি জরুরি।

– রাশিয়া ও চীন বলেছে, এই মোতায়েন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। তারা ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে।

– ইউরোপীয় ইউনিয়ন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

 

ঐতিহাসিক তুলনা

২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্র একইভাবে উন্নত যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছিল। তখনও আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতি চলছিল। ইতিহাস বলছে, যুক্তরাষ্ট্র যখনই এভাবে বড় মোতায়েন করেছে, তখনই অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাত দেখা দিয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতামত

– মাইকেল ও’হ্যানলন (Brookings Institution): “F-22 Raptors মোতায়েন মানে যুক্তরাষ্ট্র আকাশপথে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে।”

– রায়ান ক্রোকার (প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত): “এটি ইরানকে আলোচনায় নমনীয় হতে বাধ্য করতে পারে।”

 

সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ প্রভাব

যদি আলোচনায় কোনো সমাধান না আসে এবং যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে:

– ইরান পাল্টা আক্রমণ চালাতে পারে।

– হিজবুল্লাহ, হুথি, সিরিয়া—সব মিত্র সক্রিয় হতে পারে।

– তেলের দাম বেড়ে যাবে।

– বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধাক্কা খাবে।

– মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হবে।

 

উপসংহার

F-22 Raptors মোতায়েন নিঃসন্দেহে একটি বড় ঘটনা। এটি শুধু ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক রাজনীতিকে প্রভাবিত করবে। এখন প্রশ্ন—এই শক্তি প্রদর্শন কি আলোচনার সফলতা আনবে, নাকি যুদ্ধের আগাম বার্তা হয়ে উঠবে?