স্টেট অব দ্য ইউনিয়নে উত্তেজনা: রাশিদা ও ইলহানকে ‘ফিরিয়ে দেওয়ার’ দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বার্ষিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভাষণের সময় প্রতিবাদ জানানোর পর দুই মুসলিম নারী কংগ্রেস সদস্য—Rashida Tlaib ও Ilhan Omar—কে নিজ নিজ পূর্বপুরুষের দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump।

মার্কিন সময় মঙ্গলবার রাতে ক্যাপিটল হিলে ভাষণ চলাকালে ওই দুই আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তারা অভিযোগ তোলেন, প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কারণে মার্কিন নাগরিকদের ক্ষতি হয়েছে। হাউস চেম্বার ছাড়ার আগে তারা উচ্চস্বরে প্রতিবাদ জানান।

এর পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম Truth Social–এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যারা দেশের জন্য ক্ষতিকর এবং নীতিহীন আচরণ করে, তাদের দ্রুত যে দেশ থেকে এসেছে সেখানে ফেরত পাঠানো উচিত।

তবে আইনি দিক থেকে এ দাবি বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। ইলহান ওমরের জন্ম সোমালিয়ায় হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাশিদা তালিবের জন্ম মিশিগানের ডেট্রয়েটে, অর্থাৎ তিনি জন্মসূত্রেই মার্কিন নাগরিক। ফলে তাঁদের নাগরিকত্ব বাতিল করে অন্য দেশে পাঠানো আইনি প্রক্রিয়ায় সম্ভব নয়।

ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে রাশিদা তালিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, দুই মুসলিম নারী তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদ করায় ট্রাম্প তা সহ্য করতে পারছেন না। হ্যাশট্যাগে তিনি আরবি শব্দ “মজনুন” ব্যবহার করেন, যার অর্থ ‘পাগল’।

একই পোস্টে ট্রাম্প হলিউড অভিনেতা Robert De Niro–রও সমালোচনা করেন। তাঁকে ‘উন্মাদ’ ও ‘কম আইকিউ’ সম্পন্ন ব্যক্তি বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

ঘটনাটি নতুন করে মার্কিন রাজনীতিতে মেরুকরণ ও বাকস্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু প্রতিনিধি ও প্রশাসনের সম্পর্কের প্রশ্নে এ ইস্যু সামনে চলে এসেছে।