রয়টার্স/ইপসোস জরিপ :- বয়সের কারণে ট্রাম্প অসংলগ্ন আচরণ করছেন মত অধিকাংশ মার্কিন

রয়টার্স, ওয়াশিংটন

আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২০

 

নতুন এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন মার্কিনের মধ্যে ছয়জন মনে করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি অসংলগ্ন আচরণ করছেন। এমন মত পোষণকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রিপাবলিকান সমর্থকও রয়েছেন।

 

রয়টার্স ও ইপসোস পরিচালিত ছয় দিনব্যাপী এ জরিপ গত সোমবার শেষ হয়। এর এক দিন পরই ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প কংগ্রেসে তাঁর বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণ দেন।

 

 

 

কী বলছে জরিপ

 

জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ট্রাম্প বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অসংলগ্ন হয়ে উঠছেন। দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়:

 

৮৯ শতাংশ ডেমোক্র্যাট

 

৩০ শতাংশ রিপাবলিকান

 

৬৪ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার

 

 

ট্রাম্প সম্পর্কে এমন ধারণা পোষণ করেন।

 

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংলে এ ফলাফলকে ‘মিথ্যা ও বেপরোয়া বয়ান’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, ট্রাম্পের ‘তীক্ষ্ণতা, শক্তি ও সরাসরি যোগাযোগের দক্ষতা’ তাঁকে তাঁর পূর্বসূরি জো বাইডেন–এর থেকে আলাদা করেছে।

 

 

 

জনপ্রিয়তার চিত্র

 

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্পের সামগ্রিক জনপ্রিয়তায় বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি। নতুন জরিপে প্রায় ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, যা মাসের শুরুর তুলনায় ২ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।

 

দায়িত্ব গ্রহণের শুরুর দিকে তাঁর সমর্থন ছিল ৪৭ শতাংশ। গত বছরের এপ্রিলের পর থেকে তাঁর জনপ্রিয়তা ১–২ শতাংশের ব্যবধানে প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে।

 

 

 

বয়স্ক নেতৃত্ব নিয়ে উদ্বেগ

 

জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ওয়াশিংটন ডিসির নির্বাচিত কর্মকর্তারা অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে ‘অতিরিক্ত বয়স্ক’।

 

বর্তমানে মার্কিন সিনেট সদস্যদের গড় বয়স প্রায় ৬৪ বছর এবং প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের প্রায় ৫৮ বছর।

 

ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে তরুণ নেতৃত্বের পক্ষে মত বেশি দেখা গেছে। তাঁদের ৫৮ শতাংশ মনে করেন, সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার (৭৫) দায়িত্ব পালনের জন্য বেশি বয়স্ক।

 

 

 

নীতিগত পদক্ষেপ ও বিতর্ক

 

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ৭৮ বছর বয়সে দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নিয়ে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর তিনি দ্রুত বিভিন্ন নীতি ঘোষণা করেন—যার মধ্যে রয়েছে একাধিক দেশের পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্কারোপ এবং অননুমোদিত অভিবাসন দমনে ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন।

 

সম্প্রতি ট্রাম্প অভিযোগ করেন, রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট তাঁর ঘোষিত কিছু শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করায় তিনি ‘অপমানিত’ বোধ করছেন। পরে তিনি ভিন্ন আইনি ক্ষমতার আওতায় নতুন করে শুল্কারোপের ঘোষণা দেন।

 

ট্রাম্পের পূর্বসূরি বাইডেনের বয়স নিয়েও তাঁর মেয়াদকালে বিতর্ক ছিল। বাইডেন ৮২ বছর বয়সে দায়িত্ব শেষ করেন। ট্রাম্প আগামী জুনে ৮০ বছরে পা দেবেন।

 

জরিপের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে শুধু ট্রাম্প নয়—সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বয়স নিয়েও জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ।