Russo-Ukrainian War: ২০২৬ সালের মধ্যে কি শেষ হতে পারে যুদ্ধ?

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রায় শুরু হওয়ার পর থেকে ইউরোপসহ পুরো বিশ্ব রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে। জ্বালানি বাজার, খাদ্য নিরাপত্তা, সামরিক জোট এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে এই যুদ্ধের দীর্ঘ ছায়া পড়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে—২০২৬ সালের মধ্যে কি এই যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা আছে?

যুদ্ধের বর্তমান প্রেক্ষাপট

২০২২ সালে Vladimir Putin ইউক্রেনে “বিশেষ সামরিক অভিযান” ঘোষণা করার পর রাশিয়ান বাহিনী পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনের বেশ কিছু এলাকা দখল করে। অন্যদিকে Volodymyr Zelenskyy-এর নেতৃত্বে ইউক্রেন পশ্চিমা সমর্থন নিয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেনকে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে, অন্যদিকে রাশিয়ার ওপর একাধিক দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ফলে যুদ্ধ কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি পরিণত হয়েছে একটি ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতে।

২০২৬ সালের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শেষ হওয়া নির্ভর করছে কয়েকটি বড় বিষয়ের ওপর—

১. কূটনৈতিক সমঝোতা

যদি উভয় পক্ষ আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসে এবং সীমান্ত বা নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছায়, তবে ২০২৬ সালের মধ্যেই যুদ্ধবিরতি বা চুক্তি সম্ভব হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়।

২. সামরিক অচলাবস্থা

যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উভয় পক্ষই বড় অগ্রগতি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে “স্টেলমেট” পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এমন অবস্থায় রাজনৈতিক চাপে আলোচনা শুরু হতে পারে।

৩. আন্তর্জাতিক রাজনীতি

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সমর্থন কতটা অব্যাহত থাকে, এবং রাশিয়া কতটা অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করতে পারে—তা বড় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও প্রভাব ফেলতে পারে।

৪. অভ্যন্তরীণ চাপ

রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই দেশেই দীর্ঘ যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও মানবিক প্রভাব বাড়ছে। জনমত ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা নেতৃত্বকে আলোচনার পথে ঠেলে দিতে পারে।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি

অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এই সংঘাত ২০২৬ সালেও পুরোপুরি শেষ নাও হতে পারে। কারণ—

দখলকৃত অঞ্চল নিয়ে তীব্র মতবিরোধ

নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও ন্যাটো সম্প্রসারণ প্রশ্ন

পারস্পরিক অবিশ্বাস

বাহ্যিক শক্তির ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ

ফলে যুদ্ধ “কম তীব্রতা” নিয়ে দীর্ঘ সময় চলতে পারে, যেমনটি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে দেখা গেছে।

বৈশ্বিক প্রভাব

এই যুদ্ধের কারণে—

ইউরোপে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে

খাদ্যশস্য রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে

বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা ব্যয় বেড়েছ এ

নতুন সামরিক জোট ও কৌশলগত অবস্থান গড়ে উঠেছে

যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তা তত বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

উপসংহার

২০২৬ সালের মধ্যে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হবে কি না, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার হলে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দেয়, দ্রুত সমাধানের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থার সম্ভাবনাই বেশি।

 

বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে—কূটনীতি জয়ী হবে, নাকি সংঘাত আরও দীর্ঘ হবে?।