২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রূপার দাম বিশ্ববাজারে হঠাৎ বেড়ে গেছে, যা বিনিয়োগকারী, শিল্পখাত এবং সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় বাজারে রূপার দাম প্রতি কেজিতে ₹৭৫,০০০ ছাড়িয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে একাধিক অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও ভূরাজনৈতিক কারণ, যা একসঙ্গে বাজারকে প্রভাবিত করছে।
প্রথমত, বৈশ্বিক চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। রূপা এখন শুধু অলংকার বা গৃহস্থালি ব্যবহারের ধাতু নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য উপাদান। ইলেকট্রিক গাড়ি, সৌর প্যানেল, সেমিকন্ডাক্টর চিপস এবং AI ডিভাইস তৈরিতে রূপার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন টেকনোলজি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পের প্রসার রূপার চাহিদাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
দ্বিতীয়ত, সরবরাহ সংকটও বড় ভূমিকা রাখছে। চিলি, পেরু ও মেক্সিকোর মতো প্রধান রূপা উৎপাদনকারী দেশগুলোতে পরিবেশগত কারণে খনন কার্যক্রম কমে গেছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্টকপাইলিং নীতি বাজারে রূপার সরবরাহ সীমিত করেছে। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে দাম বেড়ে যাচ্ছে।
তৃতীয়ত, বিনিয়োগকারীদের ঝোঁকও রূপার দাম বাড়াচ্ছে। ডলার দুর্বল হওয়ায় এবং সুদের হার স্থিতিশীল থাকায় বিনিয়োগকারীরা রূপাকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে দেখছেন। স্বর্ণের পাশাপাশি রূপা এখন “হেজিং অ্যাসেট” হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ETF ও ফিউচার মার্কেটে রূপার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম আরও উর্ধ্বমুখী হয়েছে।
চতুর্থত, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাজারকে প্রভাবিত করছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে রূপা এমন পরিস্থিতিতে মূল্য ধরে রাখে, ফলে এর দাম বাড়ছে।
ভারতীয় বাজারে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট। বিয়ের মৌসুমে অলংকারের চাহিদা বেড়েছে, শিল্প খাতেও রূপার ব্যবহার বাড়ছে। তবে GST ও আমদানি শুল্কের কারণে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এতে সাধারণ ভোক্তা ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা চাপের মুখে পড়ছেন।
সব মিলিয়ে, রূপার দাম বাড়ার পেছনে রয়েছে প্রযুক্তিগত চাহিদা, সরবরাহ সংকট, বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। যদি উৎপাদন বাড়ানো না যায় এবং বাজারে স্থিতিশীলতা না আসে, তাহলে আগামী মাসগুলোতে রূপার দাম আরও বাড়তে পারে।

